ট্রান্স আইন পাশ হলে কেমন বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে?
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মানবসম্পদ বিভাগের অধীনে পে–রোল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জারা রহমান। আপাদমস্তক পুরুষ জারা রহমান নিজেকে দাবি করছেন নারী বলে। নারীদের মতই তিনি অধিকার চান, নারীদের পোষাক পড়তে চান, নারীদের সাথেই থাকতে চান। ছোটবেলা থেকে তার বিভিন্ন বাধার করুণ গল্প লিখেছে প্রথম আলো। অনেক জায়গায় মেয়েদের সাথে থাকতে চাওয়ার পরে সাধারণ কমনসেন্সের জায়গা থেকে তাকে থাকতে দেয় নি কেউ। এমন অনেক দাবি করার পরে মিরপুরের নওয়াব ফয়জুন্নেছা কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে জায়গা পেয়েছে।
ট্রান্সজেন্ডার এজেন্ডা সম্পর্কে না জানলে প্রথম শোনায় আপনার সেই ছেলেটার প্রতি মনে সহানুভূতি আসতে পারে। কষ্টও লাগতে পারে। কিন্তু এ দাবি বাস্তবায়নে আছে ভয়াবহ অন্ধকারাচ্ছন্ন গল্প। যে গল্প প্রতিদিন লেখা হচ্ছে পশ্চিমে। যে গল্পে প্রতিনিয়ত পিষ্ট হয় সাধারণ নারী ও বালিকারা। সে গল্প আপনাকে জানতে দিতে চায় না প্রথম আলোরা…
এডাম গ্রাহাম স্কটল্যান্ডের একজন ধর্ষক। দুইজন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বিচার শুরু হয়। মজার ব্যাপার হলো, বিচার চলাকালীনই হঠাৎই নিজেকে নারী দাবি করতে শুরু করে এই ধর্ষক। নাম বদলে চুল বড় করে হয়ে যায় আইলা ব্রাইসন। যথারীতি ধর্ষণের দায়ে তাকে সাজা প্রদান করা হয়- ৮ বছরের কারাদন্ড। দু দুটো নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাদন্ড পাওয়া গ্রাহাম নিজেকে নারী দাবি করার কারণে তাকে নারীদের কারাগারেই প্রেরণ করে আদালত। পরবর্তীতে বাকি নারীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাকে পুরুষদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
যাক! নারীরা যৌন নির্যাতন থেকে এবারের মত বেঁচে গেলো। তাই না?
না।
স্টিফেন টেরেন্স উড কুখ্যাত বিকৃত যৌনাচারের কারণে। প্রথম সে জেলে যায় দুজন ৯ ও ১২ বছরের ছেলেকে যৌন হয়রানির কারণে। ১৮ মাস জেল খেটে বের হয়ে সে ভদকা খাইয়ে ধর্ষণ করে তার বন্ধুর গর্ভবতী স্ত্রীকে। সে সময় তার বিচার না হলেও পরবর্তীতে হত্যাচেষ্টার কারণে জেলে যায় সে। শুধুমাত্র নিজেকে মেয়ে দাবি করার কারণে যৌন নিপীড়নের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও তাকে নারীদের জেলে প্রেরণ করে আদালত। সেই জেলে সে তিন মাসে চারজন নারীকে যৌন নিপীড়ন করে। জেলে আসার আগেও সে ধর্ষণ করেছিলো দুইজন নারীকে।
এ ধরণের ঘটনা শুধু অপরাধী কয়েদিদের সাথে ঘটছে তাই না। ঘটছে সাধারণ নারীদের সাথেও।
৫২ বছর বয়েসী ড্যারেন ম্যারিগার একজন রেজিস্টার্ড সেক্স অফেন্ডার। জঘন্য ধরণের যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত হয়েছিলো সে। পরবর্তীতে নিজেকে নারী বলে দাবি করার কারণে নারীদের বাথরুমে তাকে যাওয়ার অধিকার দেয় উই স্পা। অন্যান্য নারী ও বালিকাদের সামনে নিজের জামা কাপড় খুলে উলঙ্গ হয়ে ওয়াশরুমের কাজকর্ম করছিলো সেক্স অফেন্ডার ড্যারেন। তাতে প্রচন্ড অফেন্ডেড হয়ে সেখানে প্রতিবাদ করেন নারীরা। যৌন নির্যাতনের জন্য রেজিস্ট্রি থাকা পুরুষ লোককে কেন নারীদের টয়লেটে ঢুকতে দেওয়া হবে- তা নিয়ে তারা ৫টি মামলা করেন।
বাদ যাচ্ছে না ছোট বালিকারাও।
আমেরিকার লউডন কাউন্টিতে ছাত্রছাত্রীদের বাবামাদেরকে জানানো বাদেই স্কুলের কর্তৃপক্ষ নিয়ম করে যে কোনো ছেলে নিজেকে মেয়ে দাবি করলে মেয়েদের টয়লেটে মেয়েদের সাথে যেতে পারবে। তার কিছুদিনের মধ্যেই নিজেকে মেয়ে দাবি করা একজন ছেলে মেয়েদেরকে যৌন হয়রানি করছে বলে অভিযোগ দায়ের করে ভিক্টিম দুইজন ছাত্রী। যখন এক যৌন নিপীড়নের শিকার ছাত্রীর বাবা স্কুলের বোর্ড মিটিং এ বিষয়টি তুলে প্রতিবাদ করতে যান, তখন তাকে ঘৃণা প্রচার অভিযোগে গ্রেফতার করে ভার্জিনিয়া পুলিশ। মেয়ের সম্মানের জন্য রুখে দাঁড়ানোও যেখানে পাপ।
ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকারের পক্ষে আইন পাশ হলে আপনাকে আইনগতভাবে কোনো ছেলের মৌখিক দাবির উপরে মেনে নিতে হবে সে একজন মেয়ে। আপনার মেয়েদের ওয়াশরুমে তাকে যাওয়ার অধিকার দিতে হবে। সেটার প্রতিবাদ তো করতে পারবেনই না, এমনকি আপনার মেয়ে যৌন নির্যাতিত হলেও কিছু বলতে পারবেন না। কোনো একদিন শুনবেন, আপনার বোন হোস্টেলে একই রুমে এক ছেলের সাথে থাকছে। যেই ছেলে আপনার বোনের সব প্রাইভেট কাজ তো দেখছেই, হয়তো সুযোগ পেয়ে একদিন করে বসছে শ্লীলতাহানিও। আপনি জানবেনও না, কারণ সেই ছেলেকে আইন করে মেয়ে বানানো হয়েছে।
এক অস্বস্তিকর ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।
কথা বলুন। কথা বলতে বলুন। প্রতিবাদ করুন। রুখে দিন এ মতবাদের প্রচারকদেরকে। বয়কট করুন। নিজের মা-বোন-কণ্যার চরিত্র ও সতীত্ব রক্ষা করতে, নিজের ঈমান বাঁচাতে, এ ভূখন্ডের মুসলমানদেরকে রক্ষা করতে কথা বলতেই হবে।
কী করা যেতে পারে-
১. এ মতবাদ সম্পর্কে নিজে ভালোভাবে জানুন। পড়ে ফেলুন আসিফ আদনানের লেখা ৫২ পেইজের পিডিএফটি।
২. পিডিএফটি প্রিন্ট করে ইমাম-বক্তা-দাঈদেরকে দিন। নারীরা কীভাবে হুমকির মুখে পড়ছে, তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, উত্তরাধিকার ইস্যু নিয়ে কিভাবে সমাজে বিসশ্রংখলা তৈরি হবে এগুলা জানান ইত্যাদি বুঝিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে উৎসাহিত করুন।
৩.শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গদের জানান।
৪. এলাকার যুবকদেরকে নিয়ে আলোচনা চক্র করুন, খেলার মাঠে এ বিষয়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানান।
৫. ট্রান্সজেন্ডার এক্টিভিস্টদের ন্যারেটিভকে চ্যালেঞ্জ করে লেখালেখি করুন, ভিডিও বানান।
৬. প্রকৃত হিজড়াদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন, কীভাবে তাঁদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে
৭. কোথাও তাদেরকে এসব প্রচার করতে দেখলে প্রশ্ন করুন। সেগুলোর ভিডিও করে ছড়িয়ে দিন।
কাজ করুন। খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই।

